
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন মোঃ আমিনুল হক মাসুম। তিনি অনলাইন পত্রিকা দৈনিক প্রান্তিক জনপদ-এর সাংবাদিক আব্দুল হকের ছোট ভাই। স্থানীয়দের অভিযোগ, নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর বাজার থেকে নিজ বাড়ি সোনাপুর গ্রামে ফেরার পথে একদল সন্ত্রাসী আমিনুল হক মাসুমের পথরোধ করে। এ সময় তারা অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিল। মাসুম বাজার থেকে বাড়ির দিকে রওনা দিলে কয়েকজন সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে এবং তাকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম, এ, জি, ওসমানীন মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মাথার ডান পাশে মারাত্মক জখম ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সাংবাদিক আব্দুল হক দেশে থাকাকালীন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই তার পরিবারের সদস্যদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহত আমিনুল হক মাসুমের স্বজনরা জানান, এ ঘটনার পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য এ ঘটনায় ঐদিন সন্ধ্যায় ভিকটিম আমিনুল হক মাসুমের মা হাজেরা বেগম দোয়ারাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যাহার নম্বর ১৮, তারিখঃ ২০/০১/২০২৬খ্রিঃ