স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে সরকার বিরোধী ঝটিকা মিছিল, উসকানিমূলক স্লোগান ও মোমবাতি প্রজ্বলনের অভিযোগে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। জালালাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পাভেল আহমদ বাদী হয়ে গত ২ আগস্ট জালালাবাদ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-০৩, তারিখ- ০২/০৮/২০২৬ খ্রিঃ।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১ আগস্ট রাতে জালালাবাদ ইউনিয়নের আলীনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সদস্যরা মিছিল ও মোমবাতি প্রজ্বলন করে। খবর পেয়ে রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে থাকা ব্যক্তিরা দৌড়ে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন-নগরীর এয়ারপোর্ট থানার বাদাম বাগিছা ৪ নম্বর রোডের বাসিন্দা সিলেট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিয়ান আহমেদ আরজু, হাউজিং এস্টেট ৭ নম্বর লেনের বাসিন্দা ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমন আহমেদ, নগরীর মজুমদারি কোনাপাড়ার বাসিন্দা সিলেট জেলা তাঁতীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাত আহমেদ লায়েক, মজুমদারি আলী ভবনের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ সিলেট মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সাদিকুর রহমান সামি, মজুমদারি কমলাবাগানের বাসিন্দা ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা ফাহরাজ আহমেদ ফাহিম, শাহী ঈদগাহ মসজিদ গলির বাসিন্দা ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাহিয়ান আরিফ, মজুমদারী তরঙ্গ-৬, এয়ারপোর্ট রোডের বাসিন্দা ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তামিম বখত সৌরভ, ওসমানীনগর থানার পূর্ব সিরাজনগর গ্রামের মোঃ সিরাজ বখতের পুত্র বুরুঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল বখত, বালুচর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য রুহেল আহমদ, জালালাবাদ থানার পীরপুর গ্রামের মৃত আফাজ মিয়া প্রকাশ কুটিপতি আফাজের পুত্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মুছা সাদ্দাম, এয়ারপোর্ট রোডের ইলাশকান্দি চৌকিদেখির বাসিন্দা সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের আহমেদ সেতু, এয়ারপোর্ট থানার ছালিয়া পাগলামোড়া গ্রামের মৃত বাদশা মিয়ার পুত্র সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফ আহমদ সুমন, জালালাবাদ থানার করেরপাড়া গ্রামের লুকেশ সরকারের পুত্র ছাত্রলীগ নেতা সাগর সরকার প্রকাশ ডাইল সাগর, একই এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ইমন দত্ত, জালালাবাদ থানার আখালিয়া নতুন বাজারের বাসিন্দা ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহিদ বক্স, জালালাবাদ থানা ছাত্রলীগের নুরুল ইসলাম, একই সংগঠনের আলী আহমদ, জালালাবাদ থানার ২ নম্বর হাটখোলা ইউনিয়নের সতর গ্রামের মখবুল মিয়ার পুত্র জালালাবাদ থানা ছাত্রলীগের আল মহসিন, জালালাবাদ থানা ছাত্রলীগের উবায়েদ উল্লাহ, ২ নম্বর হাটখোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাটখোলা গ্রামের মৃত আব্দুল ছত্তারের পুত্র মারুফ আহমদ, সিলেট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নোয়াগাঁও গ্রামের বসর মিয়ার পুত্র ওবায়দুল্লাহ চৌধুরী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিলেট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দখড়ি গ্রামের কালা মিয়ার পুত্র আলী আহমদ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক উমাইরগাঁও গ্রামের বসুর মিয়ার পুত্র মাসুম আহমেদ এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আলীনগর গ্রামের গোলাম রব্বানী বতইয়ের পুত্র সুয়েব আহমদ।
এজাহারে আরও বলা হয়, একই দিন সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে জালালাবাদ থানাধীন অনন্তপুর এলাকার তেমুখী থেকে তেলীবাজার বাইপাস মহাসড়কে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সিলেট সদর উপজেলা শাখার ব্যানারে সরকার বিরোধী বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে একটি ঝটিকা মিছিল করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে নাশকতার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পুলিশ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়ে সদস্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখছিলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য উসকানি ও প্ররোচনা দিয়ে আসছিলেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার সময় আসামিরা সরকার বিরোধী বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর ৯(৩), ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে। আসামীগণ পলাতক রয়েছে। তবে পুলিশ তাদের আটক করতে অভিযানে রয়েছে।
এদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, পুলিশ কোন কারণ ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ বিএনপির দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করেছে। মামলায় ছাত্রলীগের পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা অনেক আসামীদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার ৯ নং আসামী ওসমানীনগরের বুরুঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহব্বায়ক জালাল বখতের পিতা মোঃ সিরাজ বখত অভিযোগ করেছেন, তার পুত্র এসব ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। শুধুমাত্র সে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে বলে তাকে পর পর ০৩ (তিন) টি মামলায় আসামী করা হয়েছে। এর আগেও বিগত- ০৪/০৯/২০২৪ ইং তারিখে ওসমানীনগর জি.আর. ৩০২/২০২৪ ইং ও থানার মামলা নং- ১২ এবং গত- ২৭/০৪/২০২৬ ইং তারিখে বিশ্বনাথ জি.আর. ২০৭/২০২৬ ইং ও থানার মামলা নং- ১০৫ ইং নং মামলায় তাকে আসামী করা হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালিয়েছে। বর্তমান সরকার পুলিশকে তাদের দলীয় নেতাকর্মীর মত ব্যবহার করছে।