নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা:
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো: শাহাব উদ্দিনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ মার্চ ২০২৫) বিকেলে উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কলারতলীপার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো: শাহাব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। তাঁর ছেলে ইমরান হোসেন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরিবারের দাবি, ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তারা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল রামদা, কুড়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শাহাব উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায়। সে সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় শাহাব উদ্দিনের স্ত্রী খালেদা বেগম পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করে। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা শাহাব উদ্দিন ও তাঁর ছেলে ইমরান হোসেনের নাম ধরে গালিগালাজ করতে থাকে এবং তাদের খোঁজাখুঁজি করে। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তালিমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নসিব আলীর নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ঘটনার বিষয়ে মো: শাহাব উদ্দিন বলেন, “নসিব আলীর নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল আমার বাড়িতে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় তারা আমার ও আমার ছেলে ইমরানের নাম ধরে গালিগালাজ করছিল এবং আমাদের খুঁজছিল।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস হোসেন বলেন, “হামলার সময় আমরা পাশের মসজিদে নামাজ পড়ে বের হয়েছিলাম। তখন শাহাব উদ্দিনের স্ত্রীর চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি, নসিব আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন শাহাব উদ্দিনের বাড়িতে ভাঙচুর চালাচ্ছে। তারা শাহাব উদ্দিন ও তাঁর ছেলে ইমরানের নাম ধরে গালিগালাজ করছিল এবং তাদের খুঁজছিল। আমাদের ধারণা, তারা (শাহাব উদ্দিন ও ইমরান হোসেন) ঘটনাস্থলে থাকলে তাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হতে পারত।”
তিনি আরও বলেন, “একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নসিব আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কাশেম সরকার বলেন, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”