স্টাফ রিপোর্ট :::
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আফছর আজিজ, পিয়ুষ কান্তি দে, রাহেল সিরাজ, নাজমুল ইসলাম, এড: লায়েক আহমদ, রুহেল আহমদ, আফতাব হোসেন খান, মো: আবু বক্কর সিদ্দিক, আলী আহমদ, সহ একাধিক আসামীগণকে গত ১৮/১০/২০২৬ইং তারিখে বিজ্ঞ জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, সিলেট ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩/৪ তৎসহ ৩২৬/৩০৭/১০৯/১১৪ দন্ডবিধি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ০৫(পাঁচ) বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও প্রত্যেকে ৫০,০০০/-টাকা করে অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে ০৬(ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করিয়াছেন।
বাদী পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ২০২৪ সনের ১লা জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সহিংস ভাবে দমনের জন্য আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবী অভিযুক্তদের জ্ঞাতসারে ও সংশ্লিষ্টতায় সাধারন জনগনের উপর ব্যাপক পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় সারা দেশে প্রায় ২০০০জনের বেশি আন্দোলনকারী নিহত হয় এবং অনুমান ৩০,০০০/- হাজারেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়। রাষ্ট্র পক্ষে আরও অভিযোগ করেন যে, এই আন্দোলনে দলের সহিংস অবস্থান ও পদক্ষেপ নিতে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আফছর আজিজ, পিয়ুষ কান্তি দে, রাহেল সিরাজ, নাজমুল ইসলাম, এড: লায়েক আহমদ, রুহেল আহমদ, আফতাব হোসেন খান, মো: আবু বক্কর সিদ্দিক, আলী আহমদদের সহায়তাসহ মাঠে নিজেরা উপস্থিত থাকিয়া ভিকটিমকে গুলি করা সহ বিস্ফোরনের ঘটাইয়া জনমনে আতংক সৃষ্টি করিয়াছেন। যাহা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার ও প্রচারিত হয়।
অন্যদিকে সশস্ত্র ক্যাডারদের জড়ো করা হামলার সময়ে আওয়ামীলীগ সহ আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আফছর আজিজ, পিয়ুষ কান্তি দে, রাহেল সিরাজ, নাজমুল ইসলাম, এড: লায়েক আহমদ, রুহেল আহমদ, আফতাব হোসেন খান, মো: আবু বক্কর সিদ্দিক, আলী আহমদ-কে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩/৪ তৎসহ ৩২৬/৩০৭/১০৯/১১৪ দন্ডবিধি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেকে ০৫ (পাঁচ) বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও প্রত্যেকে ৫০,০০০/-টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে ০৬(ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করিয়াছেন এবং অপরাপর আসামী রাসেল আহমদ, আব্দুস সালাম, মঈন উদ্দিন, মানিক মিয়া, রিয়াজুল ইসলাম, শামীম আহমদদেরকে দন্ডবিধি ৩২৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ০২বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ৫,০০০/-হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ০১(এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের মামলার এজাহারে মোট ১২০জন আসামীর মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা ৬১জনকে আসামী করে এবং ৫৯জন আসামীর নাম ঠিকানা সঠিক নহে মর্মে তাহাদেরকে মামলার দায় হইতে অব্যাহতি চাহিয়া বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালতে রাষ্ট্র পক্ষে মানীত ৭১জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ২৭জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করেন। তাহাদের সকলেই ভিকটিম মহিন আহমদকে গুলি করার সমর্থনে জবানবন্দি প্রদান করিয়াছেন। আসামী পক্ষ রাষ্ট্র পক্ষের সকল সাক্ষীকে জেরা করিয়াছেন। আসামী পক্ষ জেরায় তেমন ডিফেন্স তৈরি করতে পারেন নাই। মোট আসামী ৬১জনের মধ্যে ১০জন-কে বিজ্ঞ আদালত ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩/৪ তৎসহ ৩২৬/৩০৭/১০৯/১১৪ দন্ডবিধি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেকে ০৫(পাঁচ) বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও প্রত্যেকে ৫০,০০০/-টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে ০৬(ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও অপরাপর আসামী রাসেল আহমদ, আব্দুস সালাম, মঈন উদ্দিন, মানিক মিয়া, রিয়াজুল ইসলাম, শামীম আহমদদেরকে দন্ডবিধি ৩২৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ০২বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ৫,০০০/-হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ০১(এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন এবং অপরাপর আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রমানিত না হওয়ায় তাহাদেরকে অত্র মামলার দায় হইতে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।