বিশ্বনাথের দৌলতপুরে এখন একক আধিপত্য বিএনপি নেতা শুকুর আলীর ব্যবসায়িক বিস্তার ও রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত ক্যাডার বলয়, কোণঠাসা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে বা বিদেশে

sylhet24hours.com
প্রকাশিত 12 October, Monday, 2026
বিশ্বনাথের দৌলতপুরে এখন একক আধিপত্য বিএনপি নেতা শুকুর আলীর  ব্যবসায়িক বিস্তার ও রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত ক্যাডার বলয়,  কোণঠাসা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে বা বিদেশে

বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নে বিগত দুই বছরে রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা শুকুর আলী শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। দলীয় পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর থেকে স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে তার প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে শুকুর আলী তার ব্যবসায়িক পরিধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছেন। বাজার ইজারা, স্থানীয় পরিবহন খাত এবং সামাজিক বিভিন্ন সংস্থায় তার প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। এর পাশাপাশি বিগত দুই বছরে তিনি তার নিজস্ব অনুসারী এবং যুবদল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় গড়ে তুলেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অতীতে তিনি বিএনপির প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নিখোঁজ এম. ইলিয়াস আলীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ইলিয়াস আলীর সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই মূলত এলাকায় তার ক্ষমতার ভিত্তি তৈরি হয় বলে সূত্রে জানা যায়। তিনি অতীতে ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে তিনি ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনের বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) তাহসিনা রুশদী লুনার সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব বলয় ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে এলাকায় শুকুর আলীর অনুসারী ও সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে পরিচিত একটি বলয় আইন-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে এই রাজনৈতিক প্রভাব ও আধিপত্যকে কাজে লাগিয়েই তিনি ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব লাভ করেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর বিশ্বনাথ থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং থানা কিছুদিন কার্যত বন্ধ ছিল। সে সময় পুলিশ সদস্যরাও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন। এই পরিস্থিতির পর দৌলতপুর ইউনিয়নে শুকুর আলীর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো হয়। একই সময়ে আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও অসহযোগী সংগঠনের অনেক সাধারণ সদস্য ও সমর্থকের ওপর হামলা ও মারপিট করা হয় এবং তাদের অনেকে আহত হন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের
কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব বা প্রকাশ্যে কোনো তৎপরতা নেই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ গ্রেফতার, হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের আশঙ্কায় এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন। আবার অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে যুক্তরাজ্যসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়ভাবে আরও জানা গেছে, যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত হাবিবা বেগম পূর্বে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উৎসাহের মাধ্যমে দৌলতপুর ইউনিয়নের মহিলাদের ছোট ব্যবসা, সেলাইয়ের কাজ ও অন্যান্য আয়ের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুকুর আলীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রভাব ও তার অনুসারীদের কারণে এসব নারী তাদের ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হন।

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বিরোধী বা ভিন্নমতের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মতো স্বাভাবিক পরিবেশ এলাকায় নেই। একক রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও শক্তিশালী অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা কোনো নেতাকর্মী এলাকায় ফেরার চেষ্টা করলে তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়তে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে দৌলতপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য
অন্যান্য অঙ্গ অসহযোগী সংগঠন অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ দূরে রয়েছেন। তাদের কেউ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে এবং কেউ যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন