বিয়ানীবাজার (সিলেট), প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী কামাল আহমদ চৌধুরীর খোঁজে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জানুয়ারি ২০২৪) সন্ধ্যায় উপজেলার ফতেপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন আওয়ামী ওলামা লীগ ও তালামীযে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক পরিচয়ে একদল ব্যক্তি এ হামলায় জড়িত ছিল। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকালে কামাল আহমদ চৌধুরী বিয়ানীবাজারের ফতেপুর এলাকায় আলীর বাড়িতে যান। সেখানে তিনি জানান, শিয়া মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে নিজ এলাকায় তিনি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং এর আগে তাঁর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি সাময়িকভাবে বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নেন।
একই দিন বিকেলে কয়েকজন ব্যক্তি বিয়ানীবাজার পৌর শহরের জামান প্লাজায় অবস্থিত মো. আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এবং কামাল আহমদ চৌধুরীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। প্রথমদিকে আলী তাঁর বন্ধুর অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় কামালকে দ্রুত স্থান পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। পরে কামালও আলীর বাড়ি ত্যাগ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন সন্ধ্যায় আওয়ামী ওলামা লীগ ও তালামীযে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক পরিচয়ে একদল ব্যক্তি আলীর বাড়িতে গিয়ে কামাল আহমদ চৌধুরীর খোঁজ করে। তাঁকে সেখানে না পেয়ে হামলাকারীরা বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আলী বলেন, “কামাল আহমদ চৌধুরী তাঁর ধর্মীয় মতাদর্শ, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে একটি কট্টরপন্থি গোষ্ঠীর হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। আমার বাড়িতে তাঁর অবস্থানের খবর পেয়ে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটিকে আমি সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছি। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, হামলাকারীরা কামালকে পেলে তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কামাল আহমদ চৌধুরী ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন বলেও জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবদুলাল ধর বলেন, “ব্যবসায়ী আলীর বাড়িতে হামলার বিষয়টি জানতে পেরেছি। শুনেছি, তাঁর এক বন্ধুকে আশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, ধর্মীয় বা মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে।