নিজস্ব প্রতিবেদক :::: মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের রাজনগরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ২১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী শেখ শফিউর রহমান কায়েছ, পিতা- শেখ আব্দুর রহমান জনি, গ্রাম- ভুকশিমইল, থানা- রাজনগর, জেলা- মৌলভীবাজার। রাজনগর থানার মামলা নং- ০১ । মামলায় ১৯০৮ সালের অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩/৪ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই ২০২৪ বিকেল ৪টার দিকে রাজনগর পৌরসভার পৌর পয়েন্টস্থ বর্ণমালা সড়ক (১ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হন। পরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে রাজনগর শহীদ মিনারের উদ্দেশে রওনা দিলে পথরোধ করা হয়।
বাদীর দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেওয়া একদল সশস্ত্র ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও হকিস্টিক, চাপাতি, দা, রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। এ সময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করা হয় এবং ককটেল ও অন্যান্য বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার সময় আশপাশের দোকানপাট, যানবাহন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণে বহু আন্দোলনকারী এবং সাধারণ মানুষ আহত হন। অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
বাদী শেখ শফিউর রহমান কায়েছ অভিযোগ করেন, হামলার একপর্যায়ে তাকেও লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি ছোড়া হয়। একটি গুলি তার বাম হাতে এবং আরেকটি গুলি তার শরীরের বাম পাশে বিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে বিস্ফোরণের আঘাতে অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।
পরে সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ১৮ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মামলার এজাহারে আসামি করা হয়েছে মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার হোসেনপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের পুত্র, রাজনগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোকন আহমদ, রাজনগর থানার মহেষ গৌরী গ্রামের ফরমান আলীর পুত্র, রাজনগর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, বড়লেখা থানার দৌলতপুর ডাকঘরের গল্লাসাঙ্গন গ্রামের আব্দুল আহাদের পুত্র মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, বড়লেখা থানার ভূকশিমইল গ্রামের মছদ্দর আলীর পুত্র ফয়েজ আহমদ, রাজনগর থানার পাঁচগাঁও ডাকঘরের উত্তর সারমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদির মিয়ার পুত্র মো. খালেদ মিয়া, পূর্ব রাজনগর গ্রামের রহিম খাঁর পুত্র সুরমান খাঁ, পূর্ব রাজনগর গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের পুত্র এবাদুর রহমান, পূর্ব রাজনগর গ্রামের আব্দুল গণির পুত্র সোলেমান আহমদ, মিয়ার মহল গ্রামের ফারুক আহমদের পুত্র আবু বক্কর, হোসেনপুর গ্রামের আমির হোসেনের পুত্র, ছাত্রলীগ কর্মী বদরুজ্জামান সজল, রাজনগর থানার মাউজধর গ্রামের মৃত আছদ্দর আলীর পুত্র সাইদ আহমদ মেম্বার, রাজনগর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, ফকিরটুলা গ্রামের জগদিশ চন্দ্র দাশ, রাজনগর থানার হাবিবপুর গ্রামের বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পুত্র, মৌলভীবাজার মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান আহমদ শিপলু, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, কমলগঞ্জ থানার ঝিনারপুর গ্রামের মৃত মখলিছুর রহমানের পুত্র, কমলগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর, মৌলভীবাজার সদর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, আহাদপুর এলাকার সালেহ আহমদ সেলিম, বড়লেখার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ চৌধুরী, কুলাউড়া থানার ভাটেরা গ্রামের কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই জেবুল, নুরপুর এলাকার মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আহমদ আল ওয়ালী, মৌলভীবাজার জেলা যুবলীগের সেক্রেটারি শামীম আহমদ, রাজনগর উপজেলা যুবলীগের সেক্রেটারি লিয়াকত মিয়া এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।